Pages

Category

Showing posts with label Rakhaler Kolam. Show all posts
Showing posts with label Rakhaler Kolam. Show all posts

Friday, 3 February 2012

রাখালের কলাম--যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ক্ষিপ্ত জামাত, বেজার কিছু বামপন্থী

রাখালের কলাম----
যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ক্ষিপ্ত জামাতবেজার কিছু বামপন্থী



      গত ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা শহর ছিল মিছিলের শহর দুপুর গড়াইবার পর লাখো মানুষ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড হইতে মিছিল সহকারে বাহির হইয়া আসে মিছিলের দাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কর, ফাঁসি দাও’, ‘জামাত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ ‘রাজাকারদের পক্ষে মার্কিন চক্রান্ত রুখো’, ‘সৌদি আরবের চাপ প্রতিহত কর’ ‘মার্কিন দালালরা হুশিয়ারইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগানগুলি পুনরায় উচ্চারিত হইয়াছে আগামী ৭ জানুয়ারি জেলা সদর এবং ১১ জানুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ মিছিল সমাবেশ করিবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হইয়াছে

সিপিবি, ১৪ দল সহ বিভিন্ন দল, গণসংগঠন ও সামাজিক সংগঠন এই কর্মসূচিতে শরীক হইয়াছিল জামাত শিবির যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ এবং মুক্তিযুদ্ধের তীব্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ জামাতীদের সেদিন ঘরে ঢুকিতে বাধ্য করিয়াছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য চাপ দিতেছিল গত এপ্রিল হইতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যুগপৎভাবে সভা সমাবেশ মিছিল করার প্রস্তাব দিয়া আসিতেছিল গতবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করে নাই বরং তাহাদের কিছু নেতা, উপদেষ্টা, মন্ত্রী এতদিন পরে যুদ্ধাপরাধী বিচার করার বাস্তবতা নাই বলিয়া বক্তব্য দিয়াছিলেন সিপিবি এবং অন্যান্য কিছু সংগঠন তখনও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিল এইবার ক্ষমতায় আসিয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার শুরু করিলেও সরকারের মধ্যে নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যাইতেছে

Sunday, 21 February 2010

রাখালের কলাম : ঘর পোড়া গরু

রাখালের কলাম------------
ঘর পোড়া গরু

আবারও লাশের রাজনীতি শুরু হইয়াছে। লাশ কাহার তাহা লইয়াই প্রশ্ন উঠিয়াছে। আওয়ামী লীগ প্রশ্ন তুলিয়াছে, জিয়াউর রহমানের লাশ বলিয়া যাহা ঢাকায় কবরস্থ করা হইয়াছিল তাহা জিয়ার লাশ ছিল না। ডিএনএ পরীক্ষা করিতে হইবে। বিএনপি পাল্টা বলিয়াছে, টঙ্গিপাড়ায় যে লাশ কবরে আছে তাহা বঙ্গবন্ধুর নহে অন্য কাহারও। এতদিন পরে এইসব বিষয়বস্তু লইয়া তোলপাড়ে দেশ ও জনগণের কী যাইবে বা আসিবে উহা ওই দুই দলের নেতৃবৃন্দই বলিতে পারিবেন। আওয়ামী লীগ বরং বলিতে পারিত যে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের যে বিচার হইয়াছিল তাহা যথাযথভাবে হয় নাই। বিচার হইয়াছিল সামরিক আদালতে, গোপনে। বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সেদিন ফাঁসি দেওয়া হইয়াছিল। জেনারেল মঞ্জুরকে সেই দিন উত্তেজিত সৈনিকদের মত (গড়ন) হত্যা করে নাই। তাহাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করিয়া হত্যা করা হইয়াছিল। খালেদা জিয়াও

Monday, 25 January 2010

রাখালের কলাম : প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

রাখালের কলাম---------
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ হইতে ১৩ জানুয়ারি ভারত সফর শেষে দেশে ফিরিয়াছেন। এই সফরের সময় বাংলাদেশের সহিত তিনটি বিষয়ে চুক্তি হইয়াছে এবং দুইটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হইয়াছে। ইহা ছাড়াও সফর, চুক্তি, সমঝোতা, পারস্পরিক আলোচনার বিষয়বস্তুর বৃত্তানন্ত সহকারে একটি যৌথ ইশতেহারও প্রকাশিত হইয়াছে।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসিবার পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর লইয়া অনেক কথাবার্তা হইয়াছে। ভারতের সহিত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শীতল এবং কখনও কখনও বৈরী সম্পর্ক এবং নানা বিষয়ে বিরোধ উভয় দেশের দায়িত্বশীল নাগরিকদের উদ্বিগড়ব করিয়া তুলিয়াছে। আমরা বন্ধু পাল্টাইতে পারি কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টাইবার কোন উপায় নাই। ইচ্ছায় হউক, অনিচ্ছায় হউক আমাদিগকে প্রতিবেশীদের লইয়াই চলিতে হইবে। আজিকার দিনে একা চলা সম্ভব নহে। সবাইকে লইয়াই চলিতে হইবে। প্রতিবেশীর সহিত সম্পর্ক তিক্ত হইলে তাহা কাহারও জন্য মঙ্গলজনক হইতে পারে না। তাহাতে উভয়ের জীবন অতিষ্ঠ হইয়া উঠে, অগ্রগতি নানা ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

সফর শেষে সরকারী দল আওয়ামী লীগ বলিয়াছে সফর ‘শতভাগ সফল হইয়াছে, বিরোধী দল বিএনপি বলিয়াছে শতভাগ বিফল। ‘শতভাগ’ লইয়া দুই যুদ্ধরত

Sunday, 18 October 2009

রাখালের কলাম : জঙ্গিবাদের চাইতে বড় বিপদ "মাওবাদ"

রাখালের কলাম____________
জঙ্গিবাদের চাইতে বড় বিপদ মাওবাদ!

হঠাৎতন্ত্রের দেশে, হঠাৎ করিয়াই দেখিতেছি, জঙ্গিবাদের চাইতে যেন মাওবাদই বড় বিপদ হিসাবে দেখা দিয়াছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসিবার পর অস্ত্রপাতিসহ জঙ্গি ধরার হিড়িক পরিয়া গিয়াছিল। সংবাদপত্র ও টিভি পর্দায় ছবিসহ লোমহর্ষক কাহিনী প্রকাশিত হইল। জঙ্গিবাদের বিপদের কথা বলিতে বলিতে মন্ত্রী-নেতারা মুখে ফেনা তুলিতে লাগিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়াছিল যে, বণিক সমিতির নেতা বলিলেন, এত কথা বলিলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ জঙ্গিতে ভরা এই রূপ একটি ইমেজ দাঁড়াইতেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী বিদেশে যাইবার ভিসা পর্যন্ত পাইতেছে না। এক্ষণে হঠাৎ করিয়াই যেন জঙ্গি লইয়া কথাবার্তা তেমন শুনিতে পারিতেছি না। বরং সংবাদপত্রে এই মর্মে খবর বাহির হইয়াছে যে, এত জঙ্গি ধরিবার পর উহারা কোথায় গেল? কি করিয়া জামিন পাইল এবং জামিন পাওয়ার পর অনেকেই উধাও হইয়া গেল, এইসব লইয়া নানা প্রশড়ব। সংবাদপত্রে দেখিয়াছিলাম জামালপুরে এক সাথে কয়েকজন জঙ্গি নারী ধরা পড়িয়াছিল। বিভিনড়ব পত্রিকায় তাহাদের ছবিও আসিয়াছে। শুনিলাম মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের দু-একজন নেতা তাহাদের ছাড়াইয়া আনার ব্যবস্থা করিয়াছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরও এইরূপ ঘটিয়াছে। অর্থ ও স্বার্থের বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধীসহ কুখ্যাত রাজাকারদের রক্ষা করা হইয়াছে, তাহাদিগকে সমাজে পুনর্বাসিত করা হইয়াছে। অপরদিকে শহীদ তাজুলের মতো, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পাটি-ছাত্র ইউনিয়নের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেককেই জীবনরক্ষার জন্য বনে-বাদাড়ে ঘুরিতে হইয়াছে।

কেহ কেহ জীবনও দিয়াছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ লোকজনকে আটক করিয়া টাকা আদায় করা হইয়াছে। এইসবের পরিণতিতেই পাকিস্তানপন্থী, যুদ্ধাপরাধী রাজাকাররা ক্ষমতা দখল করিয়াছে। দেশবাসী জঙ্গিদের শাস্তি চায়। জঙ্গিদের নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন চায়, উহাদের

Sunday, 4 October 2009

রাখালের কলাম : শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা লইতেছেন

রাখালের কলাম------------
শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা লইতেছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিয়াছেন, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয় নাই। গণতন্ত্র ব্যাহত ও নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলিতেছে। অনেক লড়াই-সংগ্রাম করিয়া গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করিয়াছি। জনগণকে সজাগ থাকিতে হইবে, পুনরুদ্ধার করা গণতন্ত্র কেহ যেন আর হরণ করিতে না পারে। সবাই সতর্ক না থাকিলে বিডিআরের মতো অমানবিক ঘটনা আবারও ঘটিতে পারে। তবে জনগণের সহযোগিতা থাকিলে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করিয়া আমরা দেশকে আগাইয়া লইয়া যাইবই।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র’ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আনিত এক প্রস্তাবের উপর আলোচনা করিতে গিয়া শেখ হাসিনা এই কথা বলেন। তিনি বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতা দখল করে। রাষ্ট্র চালায়। বার বার এই ধরনের ঘটনার জন্য দেশ পিছাইয়া পড়িয়াছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোথাও কোনো নির্বাচিত সরকারকে মিলিটারি ডিক্টেটর উৎখাত করিতে পারিবে না এবং জনগণের অধিকার ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার লইয়া ছিনিমিনি খেলা যাইবে না- জাতিসংঘের পক্ষ হইতে এমন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হউক। শুধু বাংলাদেশেই নহে,সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়াও শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রের কথা বলিয়াছেন। এমনকি ইহাও বলিয়াছেন যে এক-এগারোর শক্তিরা আবারও ফিরিয়া আসিবার ষড়যন্ত্র করিতেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের কথা বলেন তখন তাহাকে নিছক ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলিয়া উড়াইয়া দেওয়া যায় না।
শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবেই সেনা শাসনের দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করিয়াছেন। বস্তুত বাংলাদেশের ৩৮ বৎসরের শাসনের বেশির ভাগ সময়ই ছিল সেনাশাসন। সরাসরি অথবা নেপথ্যে। সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ অবশ্য গর্ব করিয়া বলিয়াছিলেন,তিনি সেনা শাসন করিতে চাহেন নাই। সেনাবাহিনী অন্যান্য সরকারি সংস্থার মতোই নিজস্ব দায়িত্ব পালন করিয়াছে মাত্র। ইচ্ছা করিলেই তিনি ক্ষমতা দখল করিতে পারিতেন। করেন নাই। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়িয়া উঠা বাহিনী। ইহা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নহে। দেশের মানুষ স্বাধীনতার পর

Monday, 21 September 2009

রাখালের কলাম : থলির বিড়াল বাহির হইয়া পড়িতেছে

রাখালের কলাম------------
থলির বিড়াল বাহির হইয়া পড়িতেছে
এতদিনে থলির বিড়াল সব যেন বাহির হইয়া পড়িতেছে। আমাদের সুশীল সমাজ লেখায় প্রবন্ধে, টক শো-তে, সভা-সেমিনারে, সমাবেশে বাংলাদেশকে সঙ্কট হইতে উদ্ধার করিবার মহাপরিকল্পনা তুলিয়া ধরিতে শুরু করিলেন। আদর্শ রাজনীতি, আদর্শ নির্বাচন, আদর্শ সমাজ ও অর্থনীতি কিভাবে গড়িয়া তুলিতে হইবে দেশবাসীকে তাহার সবক দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলিলেন। চলমান রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের তুলাধুনা করিয়া নোবেল বিজয়ী ‘নিষ্পাপ’ ব্যক্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসিতে থাকিলেন।
রাজনীতিতেও নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাত, উত্থান-পতন, সংলাপ-রংলাপ চলিতে থাকিল। আমাদের ডোনাররা বা দান খয়রাতকারীরা, যাহারা সুদে-আসলে দানের অর্থ তুলিয়া লইতে ভুলেন না তাহারাও প্রকাশ্যে উপদেশ নির্দেশ দান করিতে থাকিলেন। টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র তাহা ফলাও করিয়া প্রকাশ করিতে থাকিল। তাহারা বড় দলগুলি বিশেষত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টির বড় বড় নেতাদের ডাকিয়া খানাপিনা করিয়া কতরকম শলা-পরামর্শ করিলেন, ফমুর্লা হাজির করিলেন। সুশীল সমাজ ধন্য ধন্য করিয়া উঠিলেন। মুরুব্বীরা ঠিক মুরুব্বীর কাজই করিতেছেন। তাহারা দেশের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি মিটাইয়া বাংলাদেশে শান্তি ফিরাইয়া আনিতেছেন। সাম্রাজ্যবাদী ‘এককেন্দ্রিক’ মহাশক্তিধর ইচ্ছা করিলেই বাঘ ও ছাগলকে এক ঘাটে জল খাওয়াইতে পারে। কিন্তু উহারা শেষ পর্যন্ত পারিলেন না। অথবা সঙ্কটের মীমাংসা হউক তাহা চাহিলেন না।
অবশেষে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হইল। আমেরিকান স্টাইলে উহার নামকরণ হইল ১/১১। সেনা সমর্থিত সরকার ফখরুদ্দিন সাহেবের নেতৃত্বে সুশীলসমাজের।
প্রস্তাবনা অনুসারে কিছু ভালো ভালো ঘোষণা দিল। আন্দোলনরত দলগুলি হঠাৎ করিয়াই যেন চুপ মরিয়া গেলেন। তাহাদের কর্মসূচি বাতিল করিলেন। ‘বোকার দল’ কমিউনিস্ট পার্টি জরুরি অবস্থা এবং মৌলিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ও মিছিল করিল। অন্যান্য কিছু বাম দলও প্রতিবাদ করিল। কমিউনিস্ট পার্টির উপর হামলা আসিল। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হইল। পার্টি নেতাদের গ্রেফতারের জন্য পার্টি অফিস পুলিশ, বিডিআর, র‌্যাব দেড় ঘণ্টার উপর ঘিরিয়া রাখিল।
তার পরের কাহিনী আমরা জানি। সুশীল সমাজের বিরাজনীতিকীকরণের ধারায় রাজনীতির বিরুদ্ধে ঢালাও বিষোদ্গার। যাহা কোনোদিন কল্পনা করা যায় নাই হাসিনা-খালেদাসহ বাঘা বাঘা নেতা-নেত্রীদের গ্রেফতারের হিড়িক লাগিয়া গেল। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হইল। দেশ বিদেশের ব্যাংক হইতে শুরু করিয়া বালিশ, লেপ, তোষক, ড্রাম, পুকুর হইতে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হইতে থাকিল। রাস্তা-ঘাটে বস্তা ভরা টাকা, কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি পড়িয়া থাকিল। ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দিন, মইন উদ্দিন এই তিন

Sunday, 23 August 2009

রাখালের কলাম : ষড়যন্ত্র এখনও চলিতেছে

রাখালের কলাম--------------
ষড়যন্ত্র এখনও চলিতেছে

বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিধর সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি সম্প্রতি বলিয়াছেন, বাঙালির একটি দোষ তাহারা সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র দেখে। হ্যাঁ, ষড়যন্ত্র দেখাটা খুবই অন্যায়, ষড়যন্ত্র করাটা মোটেই অন্যায় নহে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হইতেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্রকারী। তাহাদের বিদেশনীতি এবং কূটনীতি বারোআনী হইতেছে ষড়যন্ত্র-হত্যাকান্ড--অন্তর্ঘাত, রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস পরিচালনা, সংঘাত-সংঘর্ষ-গণহত্যা ও প্রকাশ্য যুদ্ধ। মার্কিনীরা নিজেদের আইন, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের আইন, শত সহস্র বৎসর ধরিয়া গড়িয়া ওঠা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করিতেছে। তাহাদের ভাষায় ‘মার্কিন স্বার্থ’ রক্ষায় জগতে এমন কোনো অপরাধ নাই যাহা করিতে তাহারা দ্বিধা করে। মার্কিনীরা পুঁজিবাদী যে নিয়ম-কানুন রীতিনীতি আছে প্রয়োজনে তাহাও লঙ্ঘন করিতে পিছপা হয় না। যে ব্রিটেন উডস্ সমঝোতার মধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিওটিও-র জন্ম সেই সমঝোতাও এককভাবে প্রথম লঙ্ঘন করিয়াছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিদেশে সাম্রাজ্যবাদীদের কী নীতি হয় তাহা খুব স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার এ্যাটলি। “Britain has no principles beyond its borders only interests. অর্থাৎ“ব্রিটেনের সীমান্তের বাহিরে তাহার কোনো নীতি নাই, আছে শুধু স্বার্থ”।
সারা বিশ্বে কত হত্যা সন্ত্রাস সংঘঠিত হইয়াছে এই মার্কিনীদের নির্দেশে তাহার কোনো ইয়ত্তা নাই। তথ্য অধিকার আইন অনুসারে সিআইএ-সহ বিভিনড়ব সংস্থার কিছু কিছু দলিলপত্র প্রকাশিত হইতেছে। সাম্প্রতিক কালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড-কে কেন্দ্র করিয়া বিভিনড়ব মার্কিন দলিলপত্র প্রকাশিত হইয়াছে। প্রথম
আলো পত্রিকায় তাহা লইয়া বিস্তারিত ও গবেষণামূলক লেখা প্রকাশিত হইয়াছে। তবে এখনও প্রকাশিত দলিলপত্রে দেখা যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইন বোঝা যাইতেছে না, অথবা কালো কালি দিয়া কাটিয়া দেওয়া হইয়াছে। তবু যাহা জানা যায় তাহা লোমহর্ষক।
যাহা হউক, আসল কথায় আসি। মরিয়ার্টি সাহেব হঠাৎ করিয়া কেন বলিলেন, বাঙালিরা সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র দেখে! তিনি এবং তাহার উর্ধ্বতন কর্তারা কিছুদিন আগে সাফাই গাহিয়াছেন, আমরা ১/১১-এর সহিত জড়িত ছিলাম না। একে একে কয়েকজন রাষ্ট্রদূত এইরূপ সাফাই গাহিয়াছেন। সেইসব লইয়া গত সংখ্যায় আলোচনা করিয়াছি। তাহাদের কথা সত্য হইলে বুঝিতে হইবে, ‘প্রিন্স অব ডেনমার্ক’ ছাড়াই ‘হ্যামলেট’ নাটকটি মঞ্চস্থ হইয়াছে। শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘হ্যামলেট’। হ্যামলেট ছিলেন প্রিন্স অব ডেনমার্ক অর্থাৎ ডেনমার্কের যুবরাজ। তাহাকে ছাড়া ‘হ্যামলেট’ কিভাবে মঞ্চস্থ হইতে পারে।
১/১১-এর পর ফখরুদ্দিন সাহেবের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাহারা উপস্থিত ছিলেন তাহারা দেখিয়াছেন কিভাবে বিজয়ীর বেশে মিজ বিউটিনেস, মিজ রেনেটা প্রমুখ দরবার হলে প্রবেশ করিলেন। হাত মিলাইলেন, পরস্পরকে চুম্বন করিলেন। সেই চুম্বন গিয়ে আমাদের সংবিধান বিশারদ ড. কামাল হোসেনের গন্ড-দেশেও পতিত হওয়ার উপμম হইয়াছিল। কিন্তু হায়! কোথা হইতে টিভি ক্যামেরা ও ফটো সাংবাদিকরা আসিয়া পড়িল। পারস্পরিক অভিনন্দনের