রাখালের কলাম----
যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ক্ষিপ্ত জামাত, বেজার কিছু বামপন্থী
গত ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকা শহর ছিল মিছিলের শহর। দুপুর গড়াইবার পর লাখো মানুষ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড হইতে মিছিল সহকারে বাহির হইয়া আসে। মিছিলের দাবি ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কর, ফাঁসি দাও’, ‘জামাত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ ‘রাজাকারদের পক্ষে মার্কিন চক্রান্ত রুখো’, ‘সৌদি আরবের চাপ প্রতিহত কর’ ‘মার্কিন দালালরা হুশিয়ার’ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগানগুলি পুনরায় উচ্চারিত হইয়াছে। আগামী ৭ জানুয়ারি জেলা সদর এবং ১১ জানুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ মিছিল সমাবেশ করিবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হইয়াছে।
সিপিবি, ১৪ দল সহ বিভিন্ন দল, গণসংগঠন ও সামাজিক সংগঠন এই কর্মসূচিতে শরীক হইয়াছিল। জামাত শিবির যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ এবং মুক্তিযুদ্ধের তীব্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ জামাতীদের সেদিন ঘরে ঢুকিতে বাধ্য করিয়াছিল। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য চাপ দিতেছিল। গত এপ্রিল হইতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যুগপৎভাবে সভা সমাবেশ মিছিল করার প্রস্তাব দিয়া আসিতেছিল। গতবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করে নাই। বরং তাহাদের কিছু নেতা, উপদেষ্টা, মন্ত্রী এতদিন পরে যুদ্ধাপরাধী বিচার করার বাস্তবতা নাই বলিয়া বক্তব্য দিয়াছিলেন। সিপিবি এবং অন্যান্য কিছু সংগঠন তখনও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিল। এইবার ক্ষমতায় আসিয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার শুরু করিলেও সরকারের মধ্যে নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যাইতেছে।
